চা বাগানে এক দিনের মজুরি ১৭০ টাকা।
চা শ্রমিকদের দাবি দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি।
বাঁচার মতো মজুরি মানে একজন শ্রমিকের শুধু খাওয়া নয়। একটি পরিবারের খরচ চলতে হবে — খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ, সন্তানের পড়াশোনা এবং একটি বিশ্রামের দিনের খরচ।
দৈনিক নিত্যপ্রয়োজন
নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার খরচের বিস্তারিত অডিট
৪ জনের পরিবার ধরে হিসাব — একটি মজুরিতে একটি পরিবার চলে, একজন মানুষ নয়। হিসাব ও উৎস দেখতে যেকোনো সারিতে চাপ দিন।
শ্রমিক পরিবারের বাঁচার মতো ন্যূনতম ব্যয়ের হিসাবে সরকারের দুটি প্রধান সরকারি বুলেটিনের খুচরা বাজারদর নিয়মিত সমন্বয় করা হয়:
বর্তমান দৈনিক ১৭০ টাকা মজুরির বিপরীতে প্রতিদিন ঘাটতি ৳২৮৭।
চা শ্রমিক জরুরী সংহতি তহবিল
ন্যায্য মজুরির দাবিতে কর্মবিরতিতে থাকা এবং অতি-দরিদ্র চা শ্রমিক পরিবারের জরুরি খাদ্য, শিশুখাদ্য ও চিকিৎসার জন্য সরাসরি সহায়তা।
কেন্দ্রীয় জরুরী তহবিল
৳০ সংগৃহীত
কালীঘাট চা বাগান (মৌলভীবাজার)
ধর্মঘটে থাকা পরিবার
মালনীছড়া চা বাগান (সিলেট)
জরুরী চাল ও ডাল তহবিল
দেড়শত বছরের বঞ্চনা: শেকড়ছেঁড়া অভিবাসন থেকে বাঁচার অধিকারের সংগ্রাম
১৮৪০-এর দশকের মিথ্যা প্রলোভনে পাহাড়ে আনা, ১৯২১-এর রক্তাক্ত মেঘনা ঘাট গণহত্যা, ১৯৭১-এর বধ্যভূমি এবং বর্তমানের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরির রক্তভেজা ইতিহাস।
আন্দোলনের ভবিষ্যৎ ও মূল চার দফা দাবির সারমর্ম
চা শ্রমিকদের আন্দোলন এখন কেবল নামমাত্র মজুরি বৃদ্ধির চুক্তি নয়—এটি নতুন প্রজন্মের শিক্ষিত তরুণদের নেতৃত্বে ভূমি অধিকার, মানবিক মর্যাদা ও নাগরিক সমতার ঐতিহাসিক লড়াই।
বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর বাস্তবসম্মত সংস্কার
বাগানের শ্রমিকদের নামমাত্র 'কৃষিশ্রমিক' ক্যাটাগরি থেকে বের করে পূর্ণাঙ্গ শিল্প শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী দৈনিক ৮ ঘণ্টার কর্মঘণ্টা এবং চাকরির ঝুঁকি ভাতার আইনগত নিশ্চয়তা।
বসতভিটা ও জমির স্থায়ী মালিকানার অধিকার
চা বাগানের অব্যবহৃত ও তিন-চার প্রজন্ম ধরে বংশপরম্পরায় বসবাসকৃত খাসজমির বসতভিটা শ্রমিকদের নামে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত (দলিল ও নামজারি) প্রদান করে উচ্ছেদ আতঙ্ক ও কলোনিয়াল বন্দিদশার অবসান।
মুদ্রাস্ফীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি
বর্তমান চরম নিত্যপণ্যের বাজারে ৪ জনের পরিবারের মৌলিক খাদ্য ও জীবনযাত্রার খরচের ভিত্তিতে দৈনিক ন্যূনতম ৫০০ টাকা নগদ মজুরি এবং প্রতি বছর জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয় সমন্বয় কাঠামো।
ট্রেড ইউনিয়নের পূর্ণ গণতান্ত্রিক সংস্কার ও গোপন ভোট
মালিকপক্ষ ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে তৃণমূল শ্রমিকদের প্রত্যক্ষ ও গোপন ভোটে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন (সিবিএ) এবং বাগানভিত্তিক পঞ্চায়েত নেতৃত্ব নির্বাচনের অবাধ গণতান্ত্রিক অধিকার।
চা শ্রমিকরা আজ আর অনুদানপ্রত্যাশী কুলি নন; তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমান অংশীদার। এই চার দফা পূরণ ছাড়া চা শিল্পের কোনো টেকসই ভবিষ্যৎ সম্ভব নয়।
বাগানের মানচিত্র
লাল চিহ্ন মানে বাগানটি এখন ধর্মঘটে। বৃত্তের আকার শ্রমিকসংখ্যা বোঝায়।